শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
এক মাস সংযম, এক মাস সুস্থতা, এক মাস আত্মসংযম—পবিত্র মাহে রমজান সন্নিকটে। পুরো একটি মাস রোজার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে চাই পরিকল্পিত প্রস্তুতি, চাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, চাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস। রোজার সময় খাবারের ধরন, সময়, পরিমাণ ও উপস্থাপনা বদলে যায়, কিন্তু দৈনিক পুষ্টি ও ক্যালরির চাহিদা একই থাকে। তাই সুস্থভাবে সবগুলো রোজা পালন করতে চাইলে খাবারের গুণগত মানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
রমজানে খাবারের সময়সূচি বদলে যায়, দিনের দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হয়, তাই সাহরি ও ইফতারে সঠিক খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখন কী খাওয়া ভালো, কীভাবে খেলে শরীর ভালো থাকবে—এসব নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
সারাদিন রোজা রাখার পর প্রথম আহার ইফতার। আজানের পর খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত ও স্বাস্থ্যকর। এর সঙ্গে এমন পানীয় গ্রহণ করুন, যা শরীরে শক্তি পুনরুদ্ধার করবে ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করবে।
এরপর ঘরে তৈরি হালকা ভাজা খাবার খেতে পারেন, তবে প্রতিদিন নয়। ইফতারের পর এমন একটি স্বাস্থ্যকর মূল খাবার বেছে নিন, যা শরীরের সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে।
ডেজার্ট হিসেবে মিশ্র ফল বা দুধজাত খাবার খাওয়া যেতে পারে, তবে পরিমাণে পরিমিত রাখতে হবে এবং ঘরে তৈরি হওয়াই ভালো।
রোজায় সাহরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দিনের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। অনেকে সাহরি খান না বা অনেক আগেই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে রোজার সময় দুর্বলতা, ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা ও এসিডিটির সমস্যা হতে পারে। তাই পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সাহরি গ্রহণ করা জরুরি।
সাহরিতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। মিষ্টি, ভাজাপোড়া, বেকারি খাবার ও প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
অনেকে ইফতারে বেশি খেয়ে রাতের খাবার এড়িয়ে যান, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ইফতার পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করে তারাবির নামাজের পর হালকা রাতের খাবার খাওয়া ভালো।
সুস্থতার জন্য সঠিক খাবার, সঠিক রুটিন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করুন। পরিবারের সঙ্গে সুস্থভাবে রোজা পালন করুন।